ঢাকা — বিএনপি-র আমিরের অজু করা সংক্রান্ত একটি আলোকচিত্রে আল-বদর কমান্ডারের পুত্রের চরম অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে এক অভূতপূর্ব নীরবতা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা সেই মন্তব্যে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে পবিত্র অজুর পানির বদলে মূত্র ব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হলেও, রাজপথের চিরচেনা ‘ধর্ম অবমাননা’ বিরোধী আন্দোলনকারীরা বর্তমানে গভীর ধ্যানে মগ্ন রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ধর্মীয় অবমাননার বিচার এখন আর কেবল কর্মের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে অবমাননাকারীর বংশলতিকা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর। জামায়াতের নায়েবে শায়খ প্রফেসর পদমর্যাদার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানান, “ইসলামে ইমিউনিটি বা দায়মুক্তির একটি অলিখিত বিধান আছে, যা কেবল আমাদের বলয়ের জন্য প্রযোজ্য। যখন আমাদের ঘরের কেউ বা আমাদের আদর্শিক মিত্ররা কিছু বলে, তখন তা ‘বাকস্বাধীনতা’ বা ‘ব্যক্তিগত ক্ষোভ’ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু একই কাজ যদি কোনো সেক্যুলার বা ভিন্নমতাবলম্বী করত, তবে আমরা শাহবাগ থেকে যমুনা পর্যন্ত মিছিলের জোয়ার বইয়ে দিতাম।”

উক্ত নেতার মতে, ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা মূলত একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ইসলাম রক্ষা নয়, বরং প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা। ৭১-এর অসমাপ্ত হিসাব চুকানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের শব্দচয়ন যদি সহায়ক হয়, তবে তাকে ধর্ম অবমাননা বলাটা হবে স্রেফ বোকামি।”

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চ এবং জামায়াতের যুব শাখা এনসিপি-র পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু মন্তব্যকারী একজন আল-বদর নেতার সন্তান, তাই তার ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ’ মাপার যন্ত্রটি বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণত যেসব বুদ্ধিজীবী টক শোতে ‘ইসলামোফোবিয়া’ নিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ পাঠ করেন, তারাও এখন গবেষণার কাজে ব্যস্ত থাকায় এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে এই দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে মৃদু গুঞ্জন শোনা গেলেও তা রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। এবি পার্টির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য গাম্ভীর্যের সাথে জানান, “আমরা পবিত্রতা রক্ষা করতে চাই, তবে তা অবশ্যই আমাদের সুবিধা অনুযায়ী। কেউ যদি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে গিয়ে অজু বা নামাজের মতো পবিত্র বিষয়কে উপহাস করে, এবং সে যদি আমাদের পক্ষের হয়, তবে ধরে নিতে হবে তার নিয়্যাত পরিষ্কার ছিল।”